
নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন বানিয়াচল বটতলা বাজারে চাঁদাবাজি, ভূমিদস্যুতা, দখলবাজি এবং মাদক ব্যবসাসহ একাধিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে নরসিংদী জেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি শহিদুজ্জামান চৌধুরী শহিদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছেন। গ্যাংটির বিরুদ্ধে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং দোকানপাটে জোরপূর্বক হস্তক্ষেপের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিবরণ:
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শহিদুজ্জামান চৌধুরী বিভিন্ন সময়ে বাজারের দোকানদারদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করেন এবং দোকান বা প্লট বরাদ্দের নাম করে টাকা নিয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন না। এস্টেট অফিসার থেকে ভাড়ায় নেওয়া বাজারটি বাৎসরিক মাত্র সাত লাখ টাকায় পরিচালিত হলেও সেখানে দোকানপিছু ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও নীতিবহির্ভূত বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয়দের দাবি, এই অনিয়ম আর দখলবাজির বিরুদ্ধে কথা বললেই শুরু হয় হুমকি, ভয়ভীতি ও গ্যাং দ্বারা দমনপীড়ন। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রকাশ্যে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে, দোকানে হামলা চালায় এবং স্থানীয় যুবসমাজকে বিপথে পরিচালিত করছে।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও অপপ্রচার:
সম্প্রতি বিএনপি-ঘনিষ্ঠ সুমন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ‘অবৈধ চাঁদা তোলার’ অভিযোগ তুলে শহিদুজ্জামান সংবাদ প্রচার করান, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা। এর প্রতিবাদে বটতলা বাজারের ব্যবসায়ীরা একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।
স্থানীয়দের দাবি:
বটতলা বাজারের অসংখ্য ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, প্রশাসনের নাকের ডগায় এমন অপরাধচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকায় পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরমভাবে অবনতি হয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে শহিদুজ্জামান চৌধুরী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
শেষ কথা:
এই ধরনের রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় গড়ে ওঠা অপরাধচক্র শুধু বানিয়াচল নয়, গোটা জেলার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় নাগরিক সমাজ। তারা সরকারের কাছে জোরালো হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যেন রাজনৈতিক পরিচয় অপরাধের ঢাল না হয়।