
নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য জনাব আমির হোসেনের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের অনুমতি ছাড়া বিদেশ ভ্রমণের অভিযোগ উঠেছে। একজন জনপ্রতিনিধির এমন আচরণ শুধু প্রশাসনিক দিক থেকেই নয়, সামাজিক ও নৈতিক দিক থেকেও প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
প্রাথমিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ইউপি সদস্য আমির হোসেন পরিষদের কোনো পূর্বানুমতি কিংবা আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ ছাড়াই বিদেশ সফরে গিয়েছেন। এমনকি সংশ্লিষ্ট কোনো সভায় তাঁর বিদেশ যাত্রা সংক্রান্ত কোনো আলোচনা বা অনুমোদনের নথিও পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে প্রকাশিত হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি হয়। পুটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি নিজের দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা উপেক্ষা করে এককভাবে বিদেশ চলে যেতে পারেন, তাহলে সাধারণ জনগণের স্বার্থ রক্ষা এবং পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনায় তাঁর উপর কতটা ভরসা রাখা যায়—সে প্রশ্ন এখন উঠছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আচরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৩১ জুলাই ২০২৫, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ ফারজানা ইয়াসমিন একটি লিখিত নির্দেশনা জারি করেন। এতে পুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবর নির্দেশ দেওয়া হয়, আমির হোসেনের পাসপোর্ট এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে তাঁর বিদেশ ভ্রমণের প্রক্রিয়া, সময়কাল ও অনুমতির বিষয়গুলো তদন্ত করতে হবে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, তদন্ত শেষে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে সুস্পষ্ট মতামতসহ একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা প্রশাসনে জমা দিতে হবে। ইউএনওর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন অনেকে, কারণ এটি জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার এক গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলে মনে করছেন তারা।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আমির হোসেন বিদেশ থেকে দেশে ফিরে এলেও তিনি এখনও গণমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। তাঁর মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ থাকায় সরাসরি বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে পরিষদের একাধিক সদস্য অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং শীঘ্রই পরিষদের বিশেষ সভা ডেকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সাধারণ জনগণের মধ্যেও ঘটনার প্রতিক্রিয়া স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, জনপ্রতিনিধিরা যদি নিজেরাই নিয়মনীতি লঙ্ঘন করেন, তবে সাধারণ মানুষ কীভাবে শাসনব্যবস্থায় আস্থা রাখবে? তাঁরা এই ঘটনার দ্রুত, স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত সম্পন্ন করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পথও খোলা রয়েছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে চলে এসেছে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি ও নৈতিক দায়িত্ববোধের প্রশ্ন। ইউনিয়ন পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এ ধরনের ঘটনার মাধ্যমে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার উপর।