
ইসকন (ISKCON) হলো “ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি ফর কৃষ্ণা কনশাসনেস” (International Society for Krishna Consciousness)-এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এটি ১৯৬৬ সালে শ্রীল অভয়চরণারবিন্দ ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদ প্রতিষ্ঠা করেন। ইসকন একটি হিন্দু বৈষ্ণব ধর্মীয় আন্দোলন যা মূলত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ভক্তি বা উপাসনার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
ইসকনের মূল বিষয়গুলো:
- ভক্তি যোগ: কৃষ্ণ ভক্তির মাধ্যমে আধ্যাত্মিক উন্নতি লাভ করা।
- ভগবদ্ গীতা ও শ্রীমদ্ভাগবতম প্রচার: এই দুটি শাস্ত্র ইসকনের মূল ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
- মন্ত্র জপ: “হরে কৃষ্ণ, হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ, হরে হরে; হরে রাম, হরে রাম, রাম রাম, হরে হরে” মন্ত্র জপ করা ইসকনের গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন।
- গৌড়ীয় বৈষ্ণব দর্শন: চৈতন্য মহাপ্রভুর শিক্ষা ও দর্শনের উপর ভিত্তি করে।
- মন্দির স্থাপন: সারা বিশ্বে কৃষ্ণ মন্দির নির্মাণ ও ভক্তি কার্যক্রম পরিচালনা।
- ভগবানের প্রসাদ বিতরণ: মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করে আধ্যাত্মিক ও মানবিক সেবা প্রচার।
বিশ্বের যেসব দেশে নিষিদ্ধ ‘ইসকন
চিন, মালয়েশিয়ায়, শিয়াশাসিত ইরানে ইসকনের অনুমতি নেই। এ ছাড়া সৌদি আরব ও আফগানিস্তানে ইসকনের অনুমতি নেই। তাছাড়া ইসকন ইন্দোনেশিয়ায় আংশিক নিষিদ্ধ । তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, কাজাখস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানে ইসকনের কার্যক্রমের ওপর কঠোর নজরদারি জারি করা রয়েছে।
ইসকনের কার্যক্রম:
- ভক্তদের আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রদান।
- সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক, এবং সেবামূলক প্রকল্প পরিচালনা।
- ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা ও দর্শন প্রচারের জন্য বই, গান, এবং অন্যান্য মিডিয়া প্রকাশ করা।
বর্তমানে ইসকন একটি বিশ্বব্যাপী সংগঠন, যা প্রায় ১০০টিরও বেশি দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এটি ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার মাধ্যমে মানবকল্যাণে নিবেদিত একটি প্রতিষ্ঠান।
Leave a Reply