
ঘটনার শুরু গত ২৫ অক্টোবর বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ নগরের লালদিঘী মাঠে মহাসমাবেশ আয়োজন করে। সেদিন ইসকন চট্টগ্রাম বিভাগের নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর নির্দেশে নিউমার্কেট মোড়ে স্বাধীনতা স্তম্ভে জাতীয় পতাকার ওপর গেরুয়া পতাকা উত্তোলন করে জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করা হয় । এরপর গত ৫ আগস্ট বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান সংঘঠিত হওয়ার পর নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্টে স্তম্ভের ওপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে যা অদ্যবধি সেখানে রয়েছে। ওই মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার লোকের সমাবেশ ঘটে।
বুধবার ৩০ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার উত্তর মোহরার ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেন। মামলায় চিন্ময় দাসসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়।
২৫ নভেম্বর সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী গ্রেফতার করেন গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন-৬ এর কাজী শরিফুল ইসলামের আদালতে তোলা হলে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এ খবর পেয়ে তার অনুসারী মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারাগারে নিয়ে যেতে বাধা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে আদালত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় এক আইনজীবীর চেম্বার ভাঙচুর করে। এছাড়া বিক্ষোভকারীদের ছোড়া ঢিলে আদালত মসজিদ কমপ্লেক্সের কাঁচ ভেঙে যায়। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আদালতের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় আইনজীবী ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যার পর তীব্র ক্ষবে ফেটে পড়ে সারাদেশ সারা ।বাংলাদেশ থেকে ভারতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে ইসকন এজন্য বাংলাদেশ থেকে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে চায় দেশের সাধারণ জনতা । দেশ থেকে ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আন্দোলন শুরু করে ।
অপরদিকে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেওয়ার কথা বলছে এবং, বিভিন্ন বিজেপি নেতারা বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে যাচ্ছে ।
বৃহস্পতিবার (২৮ নভেম্বর) রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চারু বলেন, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ঘিরে ভারতের মন্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে ইসকনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কোনো দেশের কোনো ব্যক্তি চিন্ময়কে নিয়ে কী উদ্যোগ নিলো বা কী বলল. সে জন্য ইসকন দায়ী নয়। তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম আইনজীবী হত্যায় ইসকনকে অন্যায়ভাবে জড়িয়ে মিথ্যাচার চলছে। একইসঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য ইসকন দায়ী নয়। শিশুর সঙ্গে খারাপ কাজসহ নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য অনেক আগেই চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের নিষিদ্ধ হচ্ছে না ইসকন ।
বাংলাদেশে হিন্দুরা নিরাপদ জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘দেশে সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো হুমকি নেই। আর ইসকনকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’
বাংলাদেশে হিন্দুরা নিরাপদ আছে বলে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম তিনি বলেন, ‘দেশে সংখ্যালঘুদের জন্য কোনো হুমকি নেই। আর ইসকনকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।’
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) ভারতের সংবাদমাধ্যম CNN News18-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন শফিকুল ইসলাম। ভারতের আরেক সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এমন সময় এ মন্তব্য করলেন যখন বহিষ্কৃত ইসকন সংগঠক চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং চট্রগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে হত্যায় ইসকনকে দায়ী করে সংগঠনটির নিষিদ্ধের দাবি জোরদার হয়েছে সাড়াদেশে । তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুরা নিরাপদ। অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশে ইসকন নিষিদ্ধ না করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন পশ্চিমবঙ্গের নেতা ।
Leave a Reply