
মূল বেতনের ২০ শতাংশ (ন্যূনতম তিন হাজার টাকা) বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, দেড় হাজার টাকা চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশ করার তিন দফা দাবিতে চলমান এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছে বিএনপি।
দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আন্দোলনরত শিক্ষক–কর্মচারীদের সঙ্গে সংহতি জানাতে গিয়ে বলেন,
“আমি সরকারের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি—৫ শতাংশ বৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ বিবেচনা করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “যেভাবে নয় দিন ধরে প্রখর রোদে আপনারা ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষকদের বারবার রাস্তায় আসতে হয়, আবেদন জানাতে হয়—এই অবস্থা আর চলতে পারে না। আগামী দিনে যেন আর আন্দোলনে নামতে না হয়, সে জন্য বিএনপি শিক্ষাকে পূর্ণ জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।”
এই প্রতিশ্রুতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
এ সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন,
“আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। কোনো বিশৃঙ্খলা আমাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাব না।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “প্রয়োজনে উপদেষ্টা পরিবর্তন হবে, কিন্তু শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা পিছিয়ে আসব না। যদি বিকেলের মধ্যে দাবি মানা হয়, রাতের মধ্যেই শহীদ মিনার ছেড়ে চলে যাব।”
উল্লেখ্য, গত ১২ অক্টোবর থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীরা তাদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—মূল বেতনের ২০ শতাংশ (ন্যূনতম তিন হাজার টাকা) বাড়িভাড়া, দেড় হাজার টাকা চিকিৎসাভাতা এবং উৎসব ভাতা ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তাঁরা শ্রেণি কার্যক্রম বর্জন করেছেন।
এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে বিএনপি নেতারা শিক্ষকদের দাবি “ন্যায্য ও সময়োপযোগী” বলে অভিহিত করে সরকারকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a Reply